মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। শুধুমাত্র সংকেত নয়, বরং এটি স্পষ্টভাবে প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানি জলসীমার কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln স্ট্রাইক গ্রুপের উপস্থিতি এই অঞ্চলে একটি গুরুতর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরেকটি বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford সম্ভাব্য অভিযানের সমর্থনে পূর্বমুখীভাবে অগ্রসর হচ্ছে। এটি সর্বশেষ জিব্রাল্টার প্রণালীর কাছে নজরে এসেছে। অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলও অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, ওয়াশিংটন কয়েক স্তরের সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করছে।
এই ধরনের মোতায়েন কূটনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই অবস্থান না বদলালে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ইরান কেন দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে?
মার্কিন শর্তগুলো তেহরানের দৃষ্টিতে আত্মসমর্পণের সমতুল্য। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করা, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি আচরণ পরিবর্তন করা।
তেহরানের জন্য এসব মূল দেশের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে জড়িত। শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মিত্র না থাকার কারণে তারা বহু বছর ধরে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান সংঘাত দূরে রাখতে এবং চাপকে ইসরায়েলের দিকে স্থানান্তর করতে চায়।
তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ‘থ্রেশহোল্ড ক্যাপাবিলিটি’ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামরিক ব্যবহারে রূপ নিতে পারে। এই কারণে এসব উপাদান সরানো তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেঙে দিতে পারে।
ইরানের ঝুঁকি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি এই শর্ত মেনে নেওয়াকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সীমিত যুদ্ধের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক মনে করতে পারেন। অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের সম্ভাব্য বিপর্যয় এই সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকি
যুদ্ধের প্রথম ধাপে উচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতও ইরানের কমান্ড কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। বৃহত্তর সংঘাত উভয় পক্ষের জন্য অপ্রত্যাশিত পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
ইরান বর্তমানে ‘সবচেয়ে খারাপের মধ্যে সেরা’ বা সীমিত, নিয়ন্ত্রণযোগ্য সংঘাতের দিকে ঝুঁকছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা হলেও বাস্তবে এটি আরও বিস্তৃত ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।